চান্দিনা
‘চান্দিনায় ছাত্রলীগ করায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় নি রেদোয়ান কলেজ’ – দাবি শিক্ষার্থীদের

‘চান্দিনায় ছাত্রলীগ করায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করায় নি রেদোয়ান কলেজ’ – দাবি শিক্ষার্থীদের
লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে: অধ্যক্ষ
ছাত্রলীগ করায় দুই শিক্ষার্থীকে বি.বি.এ অনার্স (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি করায় নি বলে অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১০ অক্টোবর) ছিল সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির শেষ দিন। ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত ওই দুইজন শিক্ষার্থী হলেন- চান্দিনা পৌর ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল হক সাগর ও আর.এ কলেজ ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মো. শাহজালাল অভি। ওই ঘটনায় ছাত্ররা চান্দিনা থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানার এস.আই জাহাঙ্গীর ও এ.এস.আই শাহীন কলেজে গিয়ে ছাত্রদের ভর্তি করানোর বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয় নি। পরে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা বেলা আড়াইটার দিকে কলেজের প্রধান ফটকে দুটি তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও আবাসিক ছাত্রদের অবরুদ্ধ করে রাখে। বিকাল সাড়ে ৪টায় চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান ফটকের দুটি তালা ভেঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের বের করে নেয়।
বঞ্চিত ছাত্ররা অভিযোগ করেন- ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি’র মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ প্রতিষ্ঠিত চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ভূইয়া এলডিপি’র নেতা। আমরা আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী। অন্যান্য ছাত্রদেরকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি করানো হয়। কলেজে ভর্তি হতে সব কগজপত্রসহ আমারা গত ৪-৫ দিন ধরেই কলেজ অধ্যক্ষের নিকট যাই। বিভিন্ন অজুহাতে তিনি আমাদেরকে ঘুরিয়েছেন। আজ ভর্তির শেষ দিনে তিনি কলেজে নেই। উপাধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ ভূইয়া আমাদের দুজনকে লিখিত অঙ্গীকার নামা দিতে বলে।’
আরিফ ও অভি আরও জানান, ‘কলেজে কিছুদিন পূর্বে একটি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ওই ভাঙচুরের দায় স্বীকার করে অঙ্গীকারনামা দিলে আমাদের ভর্তি করা হবে বলে উপাধ্যক্ষ স্যার জানিয়েছেন।’
জানাযায়, শিক্ষার্থী মো. শাহজালাল অভি চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ থেকে এবং মো. আরিফুল হক সাগর কুমিল্লা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ওই কলেজে ভর্তির আবেদন করে তারা।
এদিকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভর্তি করা হচ্ছে না খবর পেয়ে কলেজের সামনে ভিড় করে চান্দিনা উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কলেজ ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
চান্দিনা উপজেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সামিরুল খন্দকার রবি সাংবাদিকদের জানান, ‘এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান আহমেদ এলডিপি’র মহাসচিব। অধ্যক্ষ এলডিপি নেতা। তারা এই কলেজে ভর্তি হলে কোন শিক্ষার্থী আওয়ামীলীগ বা এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবেন না। করলে তাদেরকে কোন সুযোগ-সুবিধা দেন না। ছাত্রলীগ করার কারণেই আরিফ ও অভিকে কলেজে ভর্তি করানো হচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকাও তারা দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তবুও তাদের ভর্তি করা হয় নি।’
এব্যাপারে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ ভূইয়া জানান, ‘অধ্যক্ষ সাহেব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন। আমি রুটিন ওয়ার্ক করছি, কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। তবে, কলেজে ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশের কথা উল্লেখের মাধ্যমে লিখিত অঙ্গীকার দিলে তাদের ভর্তি করানোর জন্য অধ্যক্ষ স্যার বলেছেন।’
এব্যাপারে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ‘ওই দুইজন ছাত্র আমার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তার স্বাক্ষী। এছাড়া কলেজে ভাঙচুরের ঘটনায় যে মামলা কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়ের করেছে সে মামলার আসামী। তারা ভর্তি হলে আবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এজন্য আগের ভাঙচুরের কথা স্বীকার করে ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অঙ্গীকার নামা দিতে হবে।’ ছাত্রলীগ করায় ভর্তি হতে দেওয়া হচ্ছে না বলে ছাত্রদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন- ‘এটা মিথ্যা কথা। কে কোন দল করে সেটা নিয়ে আমাদের কোন কথা নেই।’
এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, ‘ভর্তি করানো হচ্ছে না শুনেছি। আমরা অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তার মামলার আসামী ও স্বাক্ষী হওয়ায় অঙ্গীকারনামা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন। এটা আসলে ঠিকনা। মামলা থাকলে তা বিজ্ঞ আদালতের বিচার্য বিষয়। ভর্তি ও শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ শিক্ষার্থীদের অধিকার।’





