আন্তর্জাতিক

উসমানী খিলাফত যেভাবে ইউরোপ বিজয়ের যাত্রা শুরু করেছিলো

উসমানী খিলাফত যেভাবে ইউরোপ বিজয়ের যাত্রা শুরু করেছিলো

 

যুদ্ধ নয়, বরং সহযোগিতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে উসলামী খলিফারা সর্ব প্রথম ইউরোপে প্রবেশ করেন। ১৩৪১ থেকে ১৩৪৭ পর্যন্ত বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অভ্যান্তরে নিজেদের মধ্য যুদ্ধ চলছিলো। চতুর্দশ শতাব্দির প্রথমদিকে বাইজেন্টাইন সম্রাট আন্ডোনিকাস ক্যাটালান এবং গ্রীকদের মাঝে সমস্যা তৈরি হয়। এই সমস্যা সমাধানে আন্ডোনিকাস ক্যাটালান অটোমান সৈন্যদের সহায়তা নেন। ওরহান গাজির প্রথম স্ত্রী আসপরজা হাতুন, যিনি ছিলেন বাইজেন্টাইন সম্রাট আন্দোনিকসের মেয়ে। অনেক ঐতিহাসিকরা ইউরোপে অটোমানদের আগমনের জন্য সম্রাট আন্ডোনিকাস ক্যাটালানকে দায়ী করে। ১৩৪৫ সালেই ওরহান গাজি ছয় হাজার সৈন্য নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করে সম্রাট কাটাকুজিনকে সহযোগীতা করেন। ওরহানের সহযোগীতায় কৃষ্ণসাগরের উপকুল অঞ্চল এবং থ্রেস বা রোমানিয়া জয় করে। কাটাকুজিন খুশি হয়ে নিজের মেয়ে থিওডরাকে সম্রাট ওরহানের সাথে বিবাহ দেয়ার মত প্রকাশ করে। ১৩৪৬ সালে উসকুদারে (বর্তমানে ইস্তানবুল প্রদেশের জেলা) তাদের জমজমাট বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে অটোমানরা ইউরোপে শত্রু হিসেবে নয় বরং আত্মীয়তার সুত্রে প্রবেশ করে।

 

১৩৫০ সালে সম্রাট ওরহান বিশ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে কাটাকুজিনকে পুনরায় সহযোগীতা করেন। ১৩৫২ সালে ভেনিসিয় ও বুলগেরিয়ার সাথে যুদ্ধে কাটাকুজিন আবারো বিশ হাজার অটোমান সৈন্যের সহযোগীতা নিয়ে আন্দ্রিয়পলকে সুরক্ষিত করে। ১৩৫৩ সালে শাহজাদা সোলাইমান কাটাকুজিনের সহযোগীতায় থ্রেস বা রোমানিয়া একটি দূর্গ জয় করেন। এই দুর্গ ছিলো আজিয়ান সাগর এবং গ্যালিপলি বা তুরষ্কের চানাক্কালে প্রদেশের মধ্যবতী উপদ্বীপে। ১৩৫৪ সালে কাটাকুজিনের সাথে ওরহানের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। এসময় কাটাকুজিন অন্যান্য খ্রিষ্টান রাজ্যের সহযোগীতা পেতে ব্যর্থ হয়। এসময় ওরহান গ্যালিপলির আশে পাশের অঞ্চল গুলো দখল করে তাদের শাসন কাজ শুরু করে। ১৩৫৬ সালে অটোমানরা গ্রীকদের গ্যালিপলি যা বর্তমানে তুরষ্কের চানাক্কালে প্রদেশ জয় করে ইউরোপে বিজয় যাত্রা শুরু হয়।

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker