চান্দিনাজাতীয়

আমার দেখা অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি 

আমার দেখা অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি

১৯৬৬ সাল।
৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিলো বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির প্রিয় নেতা। উওপ্ত হয়ে ওঠে বাংলার জল বাংলার মাটি। তারই উওাপ এসে লাগে চান্দিনায়।
আমি তখন ক্লাস সেভেনের ছাএ। দোল্লাই নবাবপুর স্কুলে পড়ি। স্কুল ছুটির পর আমরা ৭/৮ জন বাড়ি যাচ্ছি। দোল্লাই নবাবপুর বাজারের পূর্ব পাশে বড় চালতা গাছ। সামনে খোলা জায়গায় অসংখ্য লোকের সমাগম। মাইকে বক্তৃতা হচ্ছে। আমরা কৌতুহল বশত দাঁড়িয়ে শুকনো বুট খাচ্ছি আর বক্তৃতা শুনছি। সভায় আমার বাবা সহ এলাকার মুরব্বিরা ও নেতৃবৃন্দ আছেন। চড়া গলায় বক্তৃতা হচ্ছে। সেকি জ্বালাময়ী বক্তৃতা। যা মনে পড়লেএখনো গা শিহরে ওঠে। ধবধবে সাদা হাফ হাতা সার্ট পরা টগবগে এক তরুন। দুধে আলতা মেশানো গায়ের রং। সবাই বলাবলি করছে ” এই ছেলেটার বাড়ি গল্লাই মুন্সি বাড়ি। নাম আলী আশরাফ (অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি)। বক্তৃতা শুনে দর্শকের মুর্হুমুর্হু করতালি। কিছু না বুঝে আমরাও করতালি দিই। আমি কিছুই বোঝলাম না। শুধু বোঝলাম শেখ মুজিব আর ৬ দফা। এই ধারনা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলাম।
১৯৬৭ সাল।
৬ দফা দাবির প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু সহ অনেক নেতৃবৃন্দকে জেলে আটকে রাখা হয়। এদিকে বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সমগ্র বাংলায় চলছে ছাএ জনতার আন্দোলন। আমরা আশরাফ ভাই আর কালিদার (কালি ভূষণ বকসী, হারং, চান্দিনা) নির্দেশে মাইকিং, মিছিল, পোস্টার লাগানোর কাজে সম্পৃক্ত ছিলাম।

১৯৬৮ সাল।
১ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫৪ জন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার অভিযোগ এনে রাস্ট্রদ্রোহী হিসাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপওার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে বিচার কার্য শুরু হয়। এই মামলার প্রতিবাদে ছাএ জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উওাল এই আন্দোলনে জেল জুলুম হুলিয়া উপেক্ষা করে ছাএ আন্দোলনকে চূড়ান্ত রুপ দিতে আশরাফ ভাই আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দোল্লাই নবাবপুর স্কুলে ( টিনের ঘর) মিটিং করেন। কালিদার দেরাজকণ্ঠে বক্তৃতা শেষে আশরাফ ভাই দিকনির্দেশনা মূলক বক্তৃতা করেন। আমরা ছাএ নেতৃবৃন্দ বাঁশের লাঠি নিয়ে মিটিংএর চারদিকে পাহাড়ায় দায়িত্বে ছিলাম। শুরু হয় ছাএ জনতার আন্দোলন “।জেলের তালা ভঙ্গবো, শেখ মুজিবকে আনবো।” স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় বাংলার আকাশ বাতাস। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর কল কারখায় উওাপ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের উওাপে উওপ্ত হয়ে ওঠে গ্রাম গন্জের সাধারন মানুষ।
( চলবে)
কপি নির্মল

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker