চান্দিনা
চান্দিনায় টানা বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি চারার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চান্দিনায় টানা বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি চারার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
।। মো. আবদুল বাতেন।।
কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে গেছে মাঠ-ঘাট, ফসলী জমি ও বীজতলা। সপ্তাহ ব্যাপী ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকদের শীতকালীন অনেক শাক-সবজি ক্ষেত। টানা বৃষ্টির পর রোদের খড়তাপে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। বহু চেষ্টা করে কিছুতেই রক্ষা করতে পারছে না তাদের চাষকরা সবজি ক্ষেত।
যার ফলে সবজি খ্যাত জেলা কুমিল্লায় এবারের শীত মৌসুমে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি বাজারে সরবরাহ করতে না পারার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন ফসলী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে- এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই এ উপজেলার কৃষক শীতকালিন আগামী শাক-সবজি রোপন করতে শুরু করেছিল। তাদের সৃজিত শাক-সবজির মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি টমেটো, লাল শাক, পালং শাক অন্যতম।
সপ্তাহ ব্যাপী বর্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ৫/৭দিন পূর্বে ওইসব জমিগুলোতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, লাউ, মুলার চারা রোপন এবং শাকের বীজ বপন করেছে কৃষক। এরই মধ্যে টানা ভারী বর্ষায় অধিকাংশ জমির চারা ও বীজ পঁচে গেছে। সেসব জমিতে আবারও নতুন করে বীজ ও চারা রোপন করার স্বপ্ন দেখছে কৃষক সম্প্রদায়। এতে একদিকে যেমন পিছিয়ে পড়েছে শীতকালিন সবজির আগামী চাষাবাদ অপরদিকে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে- ১৫ অক্টোবর থেকে শীতকালিন সবজি চাষাবাদের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও এ জেলায় শীতকালিন আগামী শাক-সবজি চাষাবাদ করেন কৃষক সম্প্রদায়। যার ফলে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে লাল শাক, পালং শাক, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি চাষাবাদ করেছে এ জেলার কৃষক।
এছাড়া শুধুমাত্র চান্দিনা উপজেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন আগাম শাক-সবজি চাষাবাদ করেছিল কৃষক।
সরকারি হিসাব মতে চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৩ শত হেক্টর জমির শাক-সবজি আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও ওই সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। আক্রান্ত ওইসব ক্ষেত এখন নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান তারা।
চান্দিনার হারং গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া জানান- আমি বক্সী বাড়ি সংলগ্ন এক একরেরও বেশি জমিতে ফুলকপি ও মুলার চারা রোপন করেছি। চারা রোপনের এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টি। ওই বৃষ্টিতে পঁচে গেছে অধিকাংশ চারা। জমি চাষ থেকে শুরু করে চারা রোপ পর্যন্ত প্রায় আমার ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টিতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অপর দিকে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করতে শীত মৌসুমের এক মাস পিছিয়ে পড়েছি।
মনির ও ছিদ্দিকুর রহমান জানান- আমরা প্রায় এক একর ২০শতাংশ জমিরতে টমেটো ও মুলার চাষ করেছি। বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে।
তুলাতলী গ্রামের কৃষক ফরিদ উদ্দিন জানান- এবারের শীত মৌসুমে কুমিল্লার হাট-বাজার গুলোতে স্থানীয় উৎপাদিত আগাম শাক-সবজি তেমন পাওয়া যাবে না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন- সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের টানা বর্ষায় নষ্ট হয়ে গেছে শীতকালীন আগাম শাক-সবজির চারা।
চান্দিনা উপজেলার এক উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সারওয়ার হোসেন জানান- প্রচুর বৃষ্টিতে অধিকাংশ মুলা ও ফুলকপির জমি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে যেসব টমেটো ক্ষেত থেকে পানি নিস্কাশন করা হয়েছে সেগুলো এখনও ভাল আছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুরজিৎ দত্ত জানান- আমরা এখনও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করিনি। সকল উপজেলা থেকে তালিকা নিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবো। যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে সহযোগিতা করবো।





