শিক্ষাঙ্গন

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চান্দিনায় বই উৎসব

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চান্দিনায় বই উৎসব

 

হোসাইন আহমেদ

বছরের শুরুতেই নতুন শ্রেণীর নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। সারাদেশের ন্যায় চান্দিনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন শ্রেণীর নতুন বই।মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া শুরু হয়।

 

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, সকালে অনুষ্ঠান করে বই বিতরণ শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সবার হাতেই নতুন বই। চার রঙের ও আকর্ষণীয় মলাটে বই পেয়ে খুশিতে নেচে গেয়ে বেড়াচ্ছে স্কুলের মাঠে। অনেকেই আবার বই উল্টিয়ে কবিতা ও গল্প পড়া শুরু করে দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকালে ১১টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া’র সভাপতিত্বে বই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো.আলী আশরাফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বকসী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা ইসলাম, ,পৌর মেয়র মো মফিজুল ইসলাম,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো গাউছুল আজম, চান্দিনা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো এমদাদুল হক,

 

প্রধান অতিথি অধ্যাপক মো আলী আশরাফ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারাদেশ ব্যাপী ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বই বিতরণ উৎসব পালন চলে আসছে। আমি আশা করব তোমরা নতুন বই পেয়ে পড়ায় আরো মনযোগী হবে। সরকারের যে আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবায়ন করে দেশকে সাবলম্বী করে তুলবে।

 

তিনি আরো বলেন, আজ ৩৫ কোটি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এত বই পৃথিবীর কোনো দেশ ছাপায় না, ছাপাতে পারবেও না। শুধু বাংলাদেশ পারবে। তোমরা বাসায় গিয়ে নতুন বই পড়বে।

উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বকসী বলেন, তোমরা খুবই সৌভাগ্যবান যে, তোমরা নতুন বই পাও। আমি কোনোদিন নতুন বই পাই নাই। তাই তোমাদের দেখে আমার ঈর্ষা হচ্ছে। তোমরা বেশি করে বই পড়বে। আমাদের মেয়েরা কিন্তু ছেলেদের চেয়ে বেশি স্কুলে যায়। এজন্য আজ থেকে দশ বা বিশ বছর পরে বাংলাদেশটা হবে একটা সোনার দেশ, সোনার বাংলা।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকারিয়া বলেন, আজকের দিনটা বাংলাদেশের জন্য খুবই আনন্দের। তোমাদের হাতে বই তুলে দেওয়াটা সবচেয়ে বড় কাজ। কারণ তোমরাই দেশের ভবিষ্যত। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই এটা সফল হয়েছে। আশা করি তোমরা সবাই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবে। সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলাটাও করতে হবে। দুটি জিনিসই একসঙ্গে চালাতে হবে এবং সবগুলোতেই ভালো করতে হবে। তোমাদের কাছে এটাই আশা করি।

 

পৌর মেয়র মফিজুল ইসলাম বলেন, বই বিতরণ একটি অভাবনীয় উদ্যোগ। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৯ সাল হবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের ভিত্তির বছর।

 

মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আনিস বলে, নতুন বই পড়তে ভালো লাগে। সেটি যদি বছরের প্রথম দিনে হয় আরো আনন্দের।

একই বিদ্যালয়ের ছাত্র জাবেদ বলে, আমি ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি। এ বছরেও ভালো অধ্যয়নের মাধ্যমে ফলাফল ধরে রাখতে চাই

 

উল্লেখ্য, গত নয় বছর ধরে নববর্ষের উপহার হিসেবে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব শুরু করে সরকার।

 

 

 

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker