চান্দিনা

চান্দিনার রাজনীতি ফেস্টুন-ব্যানারে নয়: প্রাণ গোপাল

  • চান্দিনার রাজনীতি ফেস্টুন-ব্যানারে নয়: প্রাণ গোপাল

    “আমি চান্দিনা জনগণের নেতা নয়,সেবক হতে চাই” প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্ত বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কুমিল্লা ৭ চান্দিনা সংসদীয় আসন।

    উক্তির কথাটা শুনলে ও বুঝতে পারলেই মনে নতুন আশা জাগে।চান্দিনায় তরুণ প্রজন্ম যাদের কে তথাকথিত রাজনৈতিক বোদ্ধা ‘আই হিট পলিটিক্স জেনারেশন’ আখ্যায়িত দেন,তাদের জন্য বলি, আমরা নেতা নয় জনগণের সেবক প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের সহযাত্রী বঙ্গবন্ধু আদর্শের অনুসারী যাকে নেতা নয় স্যার নামে ডাকতেই পছন্দ করি।

    প্রাণ গোপালের মতো রাজনৈতিক স্যার শুধু চান্দিনায় নয় সারা বাংলাদেশে খুব বেশি নেই। যিনি চান্দিনার তরুন প্রজন্ম ‘আই হিট পলিটিক্স’ জেনারেশনকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তা দেখিয়ে তিনি ক্ষান্ত থাকেননি দিনের পর দিন তরুণ প্রজন্মের রেফারেন্সে চান্দিনার ছাত্র জনতার সাথে কখনো রোগীর ডাক্তার হিসেবে, কখনো ছাত্রের অভিভাবক হিসেবে, কখনো চান্দিনাবাসীর শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখেছেন চান্দিনার দলমত নির্বিশেষ সকল চান্দিবাসীকে মনের অন্তস্থল থেকে। ছাত্ররাজনীতির যুক্ত যুবকদের খোঁজ খবর নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি।

    নেতা নয় চান্দিনার সেবক হওয়ার ইচ্ছাটা ছোট বেলায় জন্ম নেয় প্রফেসর দত্তের।বর্তমানে চান্দিনার অভিভাবক হিসাবে সত্যিকারের জনগণের সেবক হয়ে উঠবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

    চান্দিনাসহ সারা বাংলাদেশে যোগ্য নেতা নেই বলে আমরা সবসময় হা হুতাশ করি। উন্নত কোনো রাষ্ট্রের সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা বিখ্যাত ব্যক্তির সততার সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপন দেখলে আমরা খুশি হই। কোন সাংসদ যদি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে ঘুরে, তাকে স্বাগত জানাই। যেকোনো কাজে সাংসদের নিকট সবসময় সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া থাকলে আমরা তাকে জনপ্রিয় নেতা বলি। কোনো সংসদ সদস্য উদার হলে তাকেই আমরা জনগণের প্রকৃত সেবক বলি।

    আমার দেখা এই ধরণের সকল গুণাবলির তাত্ত্বিক জ্ঞান রয়েছে প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের মধ্যে,শুধু প্রয়োগ করা সময়ের ব্যাপার । সারা চান্দিনায় বর্তমানে এই ধরণের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বিনয়সুলভ জনসেবক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

    কুমিল্লা জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক ব্যক্তি সংসদ সদস্য এম.পি, বাহার বলেছিলেন, ” চান্দিনায় রাইট চেয়ারে রাইট পার্সন এসেছেন।”

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো : মমিন সরকার বলেছেন,” ৭১ এর রঙ্গানের সহযোদ্ধা হিসেবে দেখেছি আপোষহীন হৃদয়ে মুজিব আদর্শ চর্চার এক মূর্ত প্রতীক প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্ত।”

    আমরা বড় অভাগা চান্দিবাসী এমন জনগণের সেবককে অভিভাবক হিসাবে আরো আগে পাইনি।

    তবে আজ টানা ১৩ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পর চান্দিনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চা ও তৃণমূল আওয়ামীলীগের স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক চর্চাই বা কতটা হচ্ছে?

    চান্দিনার রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ চর্চা কতটা মুখে, আর কতটা বুকে?

    ফেসবুক কিংবা চান্দিনা শহর গ্রামজুড়ে পোস্টার-ব্যানার, খুব সহজে দেখা যায়, দেখানো যায়।অথচ কিছু দিন পূর্বেও ছিল অন্য কারো ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও ফেইসবুকে ছবি।

    এসব দিয়ে রাজনীতির সক্রিয়তা প্রকাশ করা যতটা সহজ, বুকের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চায় কাজগুলো সেই তুলনায় করা একটু কঠিন।সময়ের আর্বতনে এই মুহূর্তে চান্দিনায় মুজিব আদর্শ চর্চার সহযাত্রী হিসেবে চান্দিনার অভিভাবক হিসাবে রয়েছেন প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্ত।

    আফসোস, এই দেশে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে আমলা কিংবা নানা পেশাজীবী লোকজন তথা আমরা রাজনৈতিক সক্রিয়তার বহিঃপ্রকাশের জন্য সহজ পথটা বেছে নেই। সেই তুলনায় চান্দিনায় প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চাকারী খুবই কম।বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত আদর্শের চর্চা করতে না পারলে বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে চান্দিনায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি কত দিন চলবে। তাই প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তকে অবগত না করে চান্দিনার রাজনীতির চিরাচরিত গতানুগতিক নিয়মে ফেইসবুক স্ট্যাটাস,ব্যানার ও পোস্টারের রাজনীতি বন্ধ ঘোষনা করে ইতিমধ্যে নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্ত নির্দেশনা দিয়েছেন।নতুন করে প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের ছবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক পোস্টার, ব্যানার ও প্লেকার্ড করতে হলে প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

    প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাণ গোপাল দত্তের রাজনৈতিক আদর্শ কি?আমি তো বলবো বঙ্গবন্ধুর আদর্শই হলো প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের একমাত্র রাজনৈতিক আদর্শ। প্রফেসর প্রাণ গোপাল দত্তের বঙ্গবন্ধুর মতোই রয়েছে তার দেশ্রপ্রেম, তার অপোসহীনতা, তার সততা, সবসময় মানুষের কথা ভাবা, মানুষের জন্য অসীম ভালোবাসা।

    একটা মানুষ চান্দিনাবাসী কে কী পরিমাণ ভালোবাসতে পারে তার বড় প্রমাণ বলতে পারেন,

    ” আমি চিকিৎসক জীবনের প্রথম থেকেই চান্দিনাবাসীকে ফ্রি সেবা দিয়েছি এবং আমৃত্যু দিয়ে যাবো।”——–প্রফেসর দত্ত

    কুমিল্লা ৭ চান্দিনার উপ নির্বাচনের বিভিন্ন পথ সভায় প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের বক্তব্যে উঠে আসে যে, আওয়ামী লীগ একযুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায়। গত ১৩ বছরে মুখে মুখে চান্দিনায় বঙ্গবন্ধুর কথা বলা লোকের সংখ্যা হুহু করে বাড়লেও বাস্তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চার লোক কতোটা বেড়েছে? এই বিষয়ে কথা বলার ও লাগাম টানা দরকার কারণ মুখে বঙ্গবন্ধু বলার চেয়ে অন্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শধারী লোকের সংখ্যা বাড়লে তো জিবির নামে চান্দিনায় অটোরিক্সা সিএনজি স্টপেজে এতো দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ তৈরি হতো না, অসততা হতো না। বঙ্গবন্ধু তো এগুলো করেননি।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু একটি চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, কালোবাজারি, অর্থপাচার এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

    ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘১৯৭১-এ আমি আহ্বান জানিয়েছিলাম প্রত্যেক ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। আজ ১৯৭৫-এ আমি আহ্বান জানাই প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।’

    সেই পথেই হাটছেন চান্দিনায় নতুন প্রাণের সঞ্চারিত প্রিয় মুখ প্রফেসর দত্ত। শুধু কি দুর্নীতি,চাঁদাবাজ বা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান?

    তিনি মনে করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানেই তো দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানে সৎভাবে বেঁচে থাকা। বঙ্গবন্ধু আদর্শ মানে সবার কথা ভাবা। ন্যায্য কথা বলা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মানলে তো রাজনীতির নামে ব্যানার পোস্টার করে কেউ ভণ্ডামি করতো না, রাজনীতি করে নিজের আখের গোছাতো না, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতো না।

    বঙ্গবন্ধু তো এগুলোর কোনোটাই করেননি। অথচ আজ হরহামেশা সেগুলোই হচ্ছে।
    ফলে প্রশ্ন উঠছে , মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা বলে যারা দুর্নীতি করেন, দেশের সর্বনাশ করেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন তারা তো আসলে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম নেন।

    অবশ্য এসব লোক দেখানো ভালোবাসায় কিছু যায় আসে না। কারণ শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এদেশে প্রফেসর ডক্টর প্রাণ গোপাল দত্তের ন্যায় একদল মানুষ বুকের মধ্যে সযত্নে বঙ্গবন্ধুকে লালন করছেন। আসলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলেও তাঁর তো আসলে মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু, দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও প্রফেসর প্রাণ গোপাল দত্তের ছবি ব্যবহার করে নামে বেনামে ব্যানার ও পোস্টারে রাজনীতি বন্ধ করার যুগান্তকারী পদক্ষেপ কে চান্দিনাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।

    মোঃ খোরশেদ আলম
    কর্মকর্তা
    জনতা ব্যাংক লিমিটেড
    চান্দিনা সমবায় কর্পোরেট শাখা,চান্দিনা,কুমিল্লা।
    ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা।

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker