অপরাধজাতীয়

করোনা সন্দেহে বাবার মুখাগ্নি করতে অস্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে দীপ রায়ের,

করোনা সন্দেহে বাবার মুখাগ্নি করতে অস্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে দীপ রায়ের, ইউএনও র কড়াকড়িতে কোনরকমে পাট কাঠি দিয়ে আগুন লাগিয়েই দ্রুত পালিয়ে যায়…..

শেষে শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন ইউএনও নাজমুল হুদা!

 

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী ঢাকাতে একটি সিউিরিটি গার্ড কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন।

করোনা উপসর্গ অর্থাৎ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ৩-৪ দিন আগে গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চোরখালি গ্রামে আসেন। গ্রামের বাড়িতে শনিবার রাতে তিনি মারা যান।

 

খবর পেয়ে মৃতের নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিকসহ কয়েকজন পুলিশ মৃত বিশ্বজিৎ রায়ের বাড়িতে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের পর সৎকার করতে বললে ভয়ে উনার পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

ইউএনও এর অনুরোধে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে “পিপিই” পরানো হয়। কয়েকদফা অনুরোধের পরেও পরিবারের কেউ না আসায় একটি ভ্যানে মরদেহ তোলা এবং ভ্যান থেকে চোরখালী শ্মশানে মরদেহ নামানোর কাজে সরাসরি হাত দেন ইউএনও নাজমুল হুদা।

 

কিন্তু  শ্মশানে নেওয়ার পরে বিপত্তি দেখা দেয় মুখাগ্নি করা নিয়ে। এ সময় কয়েক দফা ফোন দিলেও মৃত বিশ্বজিৎ রায়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে দীপ রায় আসতে চায়নি,  মৃতের আপন ভাই মোহন রায়ও আসেনি। একপর্যায়ে ইউএনও নাজমুল হুদা অনেকটা কড়া ভাষায় ফোন করে বকা এবং শাসনের পরে ছেলে দীপ রায় শ্মশানে  আসে। কোন রকমে একটি পাটকাঠির মাথায় আগুন ধরিয়ে দূর থেকে বাবা বিশ্বজিৎ রায়ের মুখের দিকে  ছুঁড়ে দিয়েই সে শ্মশান থেকে পালিয়ে যায়।

 

এরপর ইউএনও নাজমুল হুদা, দৈনিক খবরের জেলা প্রতিনিধি ফসিয়ার রহমান,  বেলা ১২টার দিকে ভ্যানচালক ও অন্য দুইজন লোককে সাথে নিয়ে মৃত বিশ্বজিৎ রায়ের লাশ সৎকার সম্পন্ন করেন।

ইউএনও নাজমুল হুদা সাহেব এবং উনার সঙ্গে সৎকার টিমে থাকা সকলের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, এই মানবিক দৃষ্টান্তের সত্যিই কোন তুলনা হয়না।

.

আর মৃত বিশ্বজিৎ রায়ের ছেলে দীপ রায়কে বলছি, ” সিকিউরিটি কোম্পানিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাকরি করে যে বাবা তোমাদের পুরো পরিবারের ভরণপোষণের পিছনে সারাজীবন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, এমনকি তোমাকে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার মতো তৈরি করে দিয়েছেন, তাঁর মৃত্যুর পর তোমার এই অমানবিক আচরণ একটা কথাই প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও তুমি একজন জ্ঞানপাপী আর অমানুষ!!

 

নিলয় চক্রবর্তীর টাইমলাইন থেকে।

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker