আন্তর্জাতিক

পাপুল কুয়েতের ২ সাংসদকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঘুষ দেন

পাপুল কুয়েতের ২ সাংসদকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঘুষ দেন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাসাংসদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল তদন্ত কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, সাদুন হামাদ আর ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদ এই দুই সাংসদকে তিনি সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার দিনার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

আজ সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০ কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের দপ্তর ও তদন্ত সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আরবি দৈনিক ‘আন নাহার’ ও ‘আল কাবাস’ এ খবর জানিয়েছে।

শহিদ ইসলাম আটক হওয়ার পর থেকেই তাঁর মদদদাতা হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিষয়টি আলোচনায় চলে আসে। কুয়েতের সংসদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ নিয়ে সরব হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে দুই সাংসদের প্রাধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে কুয়েতের একটি সংসদীয় কমিটি।

কুয়েতের সংসদের কাল মঙ্গলবারের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ায় অভিযুক্ত দুই সাংসদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি একটি সংসদীয় কমিটি সাদুন হামাদ আর ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদের প্রাধিকার কেড়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে। কমিটির সুপারিশ সংসদের অনুমোদন পেলে শহিদ ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তাদের কোনো বাধা থাকবে না।

পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে কুয়েতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সিরিয়ার এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কুয়েত সিটির দক্ষিণ সুরা এলাকায় সাংসদ সাদুন হামাদ আর ওতাইবির কাছে ঘুষ হিসেবে নগদ ৫০ হাজার দিনার বা প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেন শহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের সাংসদ তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, নির্বিঘ্নে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিল পাওয়ার জন্য কুয়েতের সাংসদকে তিনি ঘুষ দিয়েছিলেন।

কুয়েতের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার কাজ করে আসছে শহিদ ইসলামের প্রতিষ্ঠান মারাফিয়া কুয়েতিয়া। ওই প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। কোনো রকম অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে শহিদ ইসলাম ৩ লাখ ৭০ হাজার দিনার বা ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন সাংসদ সালাহ আবদুলরেধা খুরশেদকে। বেশ কয়েক ধাপে ওই ঘুষ কুয়েতি সাংসদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে শহিদ ইসলাম স্বীকার করেছেন, অনুমতি ছাড়া কর্মী নেওয়ার পাশাপাশি কুয়েতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ পেতে বিভিন্নজন তাঁকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই লোকজনকে তিনি নগদ ও চেকের মাধ্যমে টাকা ধার দিতেন। কাউকে কাউকে দামি উপহার দিয়েছেন। ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহীত।

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker