শিক্ষাঙ্গন

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বেরোবির উপাচার্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বেরোবির উপাচার্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আজ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী মহান স্বাধীনতার স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।এই দিনটি ছিলো বাঙ্গালী জাতি তথা বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক আবেগঘন দিন। সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালির হৃদয়ের মধ্য মণি বাঙ্গালী জাতির মহান নেতাকে পাকিস্তানি শাসক বাহিনী বন্দি করে অন্ধকার এক প্রকষ্ঠে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অপচেষ্টা করল তাদের জেলখানায়। সেই মহান নেতা বাঙ্গালি জাতির স্বপ্ন পুরুষ সদর্পে ফিরে এলেন নিজের মুক্ত দেশে জাতির পিতা হয়ে। পা রাখলেন হানাদার মুক্ত নিজ ভূখণ্ডে।

হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা বা স্বাধীনতার চেতনা বলতে যা বুঝায় তার কোনোকিছুই ছিলো না।বাঙালি জাতিসত্তা কখনো স্পষ্টরুপ নেয়নি।একমাত্র ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এ জনপদে ও বাঙালির ইতিহাসে প্রথম জাতিরাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ রাষ্ট্রের স্থপতি। মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল ইতিহাসে অনিবার্য উপাদান। মুক্তি যুদ্ধের দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী থাকলে ও তার নামেই ৯ মাস মুক্তি যুদ্ধ চলে।মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকার মুজিবনগর বঙ্গবন্ধুকে প্রধান করেই গঠন (১৭ এপ্রিল, ১৯৭২) করা হয়েছিল।

একাত্তরের ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্নসমর্পণের পর ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা নিরাপদ মনে হচ্ছিল না।পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ৮ ই জানুয়ারি রাতে মুক্ত হয়ে বিশেষ বিমানে লন্ডন হিথরো বিমানবন্দরে অবতরন করে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ এর সঙ্গে একঘন্টা বৈঠক করে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে যুক্তরাজ্য কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করেন।এবং পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকষ্ঠে বন্দী অবস্থায় তার জীবন রক্ষার প্রচেষ্টার জন্য বঙ্গবন্ধু এডওয়ার্ড হিথকে ধন্যবাদ জানান।

৯ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে আধাঘন্টা আলোচনা হয়, এ সময় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে শুভেচ্ছা জানায় এবং বলে ঢাকায় ফেরার পথে দিল্লি হয়ে যাতে যায় এবং কয়েক মিনিট অবস্থান করেন। প্রায় কালো ধূসর ওভারকোর্ট পরিহিত বঙ্গবন্ধু বিমানের সিঁড়ি বেয়ে যখন নামলেন।প্রেসিডেন্ট শ্রী ভরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি যখন বঙ্গবন্ধুকে আলিঙ্গন করছিলেন এবং প্রধান মন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যখন তাকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন তখন ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছিল।

বঙ্গবন্ধু ভারতের বিশাল জনসভায় আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও তার জনগণ আপানদের প্রধানমন্ত্রী,সরকার,সশস্ত্রবাহিনীর বীর সদস্যবৃন্দ এবং আপনাদের সাধারণ মানুষকে কখনো ভুলবে না।

তারপর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে সবাইকে উৎসাহী করে নিজ ভুখন্ডকে আঁকড়ে ধরে কাজ করে দেশ কে বিশ্বের দরবারে উচু আসনে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় পত্যয় ব্যাক্ত করেন।

Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker