অর্থনীতি

করোনায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প”লেখক/মো: খোরশেদ আলম,গবেষক এবং সাবেক ছাত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়।

করোনায় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প”

 

করোনায় লোকসান কাটিয়ে,ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প। সরকার ঘোষিত প্রনোদনার স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার, আওতায় আছেন দেশের বেশীর ভাগ তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানার মালিক।প্রনোদনা প্যাকেজের ঋণের সুবিধাদির কারণে বেড়েছে কারখানার উৎপাদন,বাড়ছে রপ্তানি আদেশও।

করোনার মন্দায় রপ্তানি আদেশ হারিয়ে প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে ছিল দেশের কয়েক হাজার ছোট বড় তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা।এই খাতের সংকট মোকাবেলায় শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য গত ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজের ঘোষনা করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্যা,দুঃখী মানুষের নেত্রী,প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

এই পর্যন্ত স্বল্প সুদের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজের সুবিধা নিয়েছেন বিজিএমইএ’র ১৩৫৪ জন,বিকেএমইএ’র ৪২০ জন,মোট ১৭৭৪ জন তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা মালিক এই ঋণের সুবিধা নিয়েছেন(সূত্র: বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ)
রপ্তানী উন্নয় ব্যুরো এর তথ্য মতে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ২৪১.৩৪ কোটি ডলার, অক্টোবর ২২২.৪১ কোটি ডলার।দুই মাসে এই খাতে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান।

করোনার মহামারীতে প্রথম দিকে এই শিল্পের মন্দা অবস্থা থাকলেও দৃঢ়ে দৃঢ়ে এই শিল্পের মন্দা কাটিয়েছে রপ্তানি আদেশ বাড়িয়ে।এমন পরিস্থিতে তৈরি পোশাক শিল্পের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
মন্দার শুরুতে রপ্তানিমুখী এই শিল্প রপ্তানি আয়ের অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে দ্বিতীয় অবস্থান থেকে তৃতীয় অবস্থানে চলে আসে গত ২০২০ সালের প্রথম দিকে।মন্দা অবস্থা কাটিয়ে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হলে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ও শিল্পের কাঁচামাল নিশ্চিত করলে দ্রুত এই শিল্পকে পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে যেকোন জিনিস তৈরি করা সম্ভব যদি ঐ জিনিসের কাঁচামাল থাকে।তাই বিদেশ থেকে সহজ ভাবে কাঁচামাল দেশে আনা গেলে আমাদের দেশের উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।ভিয়েতনাম,শ্রীলংকা সহ আরও অন্যান্য যে সকল দেশ তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের সাথে বিশ্ব-বাজারে প্রতিযোগিতা করছে তাদের সরকার প্রদত্ত প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যদি আরও প্রনোদনা দেয় তাহলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দ্রুত মন্দা অবস্থা কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে।

করোনার সময় তৈরি পোশাক খাতের বেশ কয়েকটি কারখানায় কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্য সরবারহ ছাড়াও বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে তাদের কর্মীদের।ঢাকা ও সাভার এলাকার কয়েকটি তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা গুরে দেখা যায় যে, প্রায় প্রতিটি কারখানায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বেশ গুরত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনার সময় তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন ধরে রাখতে করোনা মোকাবেলার সরকারি সকল নির্দেশনা অনুসরন করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

লেখক/মো: খোরশেদ আলম,গবেষক এবং সাবেক ছাত্র জাহাঙ্গীররনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

Close
Close